
সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ করলেও সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এক সহকারী শিক্ষিকা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সহকারী শিক্ষিকা শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকা বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সেবা-শুশ্রূষা করায় শিক্ষিকা শামীমা জাহানকে গালিগালাজ করেন প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৈশাচিক নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ এনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শামীমা জাহানসহ পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকারা।
সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এ সময় তিনি অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের নানারকম বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে ওইদিন বিকেলে শিক্ষিকা শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শামীমা জাহান বলেন, ‘জেলা শিক্ষা অফিসার স্যার এসেছিলেন এবং তিনি সকল শিক্ষিকাকে দাঁড় করিয়ে অনেক কথা বলেছেন। এ নিয়ে অন্যান্য শিক্ষিকাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন ‘আলোকিত বাংলাদেশ’কে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তের কথা স্বীকার করেন। এ প্রতিবেদক বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পক্ষ-বিপক্ষ নয়, অভিযোগ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’