
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক কৃষকের এক একর ১২ শতাংশ জমির আধাপাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার ভোররাতে বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র দেবনাথের ছেলে জমির মালিক কিশোরী মোহন দেবনাথের চাপাপাড়া মৌজার খতিয়ান নম্বর ৯২ এবং দাগ নম্বর ১৫৮২-এর এক একর ১২ শতাংশ জমির আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের হিরামনি গ্রামের মো. হাকিম উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
জমির মালিক কিশোরী মোহন দেবনাথের দাবি, বাপ-দাদার আমল থেকে তাঁর পরিবার ওই জমি চাষাবাদ করে আসছে। দুর্বৃত্তরা তাঁর জমির সব আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কিশোরী মোহন দেবনাথ বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এই জমি চাষ করে আসছি। হঠাৎ করে জমির সম্পূর্ণ ধান কেটে নিয়ে যাওয়ায় আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে মো. হাকিম উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়া বলেন, “ওই জমির ধান আমরা কেটে নিয়ে এসেছি। জমিটির প্রকৃত মালিক আমরা। তাই নিজেদের জমির ধান আমরা কেটে নিয়ে এসেছি।”
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। “বিষয়টি আমি জানি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ব্যাপারে ন্যায়বিচারের জন্য কিশোরী মোহন দেবনাথ বুধবার দুপুরে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।