ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাঙামাটি পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালা

রাঙামাটি পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালা

রাঙামাটি পৌরসভাকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) উপস্থাপন-সংক্রান্ত একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থা, নিষ্কাশন ব্যবস্থা (ড্রেনেজ), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের বিষয়গুলো খসড়া মহাপরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে।

পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রস্তাবিত খসড়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন বলেন, পৌরসভার টেকসই উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যানের কোনো বিকল্প নেই। স্মার্ট পৌরসভা গড়ে তুলতে হলে অনেক মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে লেক দখল ও দূষণ হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে এখনো অনেক কাজ বাকি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম) বলেন, উপস্থাপিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। ইতিমধ্যেই পৌরসভার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনে বনরূপা এলাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির যোগাযোগ ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা গেলে এই পরিকল্পনা সফল হবে।

সাংবাদিক ফজলে এলাহী পর্যটকবান্ধব রাঙামাটি শহর গড়ে তুলতে সীমিত ভূমির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাঙামাটির অতীত সৌন্দর্য এখন অনেকটাই বিলীন হতে বসেছে। বাইরে থেকে শহরের প্রবেশমুখ পর্যন্ত দৃশ্য মনোরম হলেও ভেতরে প্রবেশ করলে সেই সৌন্দর্য আর চোখে পড়ে না।

সাংবাদিক উড়ালমনি হিমেল বলেন, মহাপরিকল্পনায় যা প্রদর্শন করা হয়েছে, তা ভূমির সঙ্গে বাস্তবসম্মত নয়। যেখানে খেলার মাঠ দেখানো হয়েছে, সেখানে ঝিরি রয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং পাবলিক হেলথ কর্তৃক সমন্বয়হীনভাবে রাস্তাঘাট কাটার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অবৈধভাবে যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন সাদেক ইয়ার খান আরমান সুপরিকল্পিত উপায়ে এবং সবার সমন্বিত অংশগ্রহণে মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, পৌরসভা একটি মূল নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। গৃহীত পরিকল্পনাগুলো যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কর্মশালায় প্রকল্পের পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে আরবান এনজিওর সমন্বয়কারী মো. খালেদ হোসেন বলেন, সারা দেশের ৫৭টি পৌরসভায় এ ধরনের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সরকার ও আরবান প্রকল্প যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

প্রকল্পের কনসালট্যান্ট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আগামী ২০ বছরের শহরের প্রয়োজনীয়তা ও বিকাশকে মাথায় রেখে পৌরসভার প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই খসড়া মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

কর্মশালায় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালা,খসড়া মহাপরিকল্পনা,রাঙামাটি পৌরসভা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত