
রংপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-এর উদ্যোগে ‘রংপুর জেলার মানুষের খাদ্য বৈচিত্রতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, নতুন প্রজন্মের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমাদের এখন থেকেই সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আগের প্রজন্মের সময়ে পুষ্টি বিষয়ে প্রচারণা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে অনেক অভিভাবকই পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানতেন না।’
উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সামনে অস্বাস্থ্যকর, প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম উপাদানযুক্ত খাবারের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে শিশু ও তরুণদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ বারটানের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খাদ্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হলে শুধু খাবার গ্রহণের দিকে নজর দিলেই হবে না। মাটি থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রান্না এবং আমাদের প্লেটে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে হবে।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কী খাচ্ছি, তার পাশাপাশি সেই খাবার থেকে আমাদের শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে কি না—সেদিকেও বিবেচনা করতে হবে। এজন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে পুরো খাদ্যব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় রংপুরের পীরগঞ্জে বারটানের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘খাবার যত কম প্রক্রিয়াজাত করা যায়, ততই ভালো। খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, অপচয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
খাদ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাংস, ফল, সবজি ও অন্যান্য কাঁচা উপকরণ আলাদা এবং সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। এর মাধ্যমে খাদ্যের মান, নিরাপত্তা ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখা সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ শাহীন সুলতানা বলেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমান বজায় রাখা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এর ফলে শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর আর্থিক চাপও তৈরি হয়। এজন্য সুস্থ থাকতে আমাদের সবার স্বাস্থ্যকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।