
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ (৪৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পাইকপাড়ার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি ২০১৯ সাল থেকে শ্রীনগর বাজারের শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, শ্রীনগর শাখায় অফিসার ক্যাশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের দাবি, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় শরিফুজ্জামান বিভিন্ন গ্রাহককে অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেন। এ সময় ব্যক্তিগত সিল ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শরিফুজ্জামান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার বোনের মধ্য পাইকপাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, দুটি এটিএম কার্ড, একটি চেকবই, একটি ব্যাংক লকারের চাবি ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল পর্যন্ত এই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৩০ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় ও ঠিকানা জানা গেলেও আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ এবং সেই অর্থের অবস্থান সম্পর্কে তিনি কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখা, ঢাকা থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় দুদকও বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, গ্রেপ্তার শরিফুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, শরিফুজ্জামানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।