
২০১০ সালে হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশের দেওয়া ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ বাতিল করে সিআইডি অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
এ সময় মামলার প্রধান আসামিসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হান বিন কামাল অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের ৮ মার্চ অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য নগরীর পিটিআই মোড়ের অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সোনাডাঙ্গা থানার সঙ্গীতা সিনেমা হলের মোড়ে পৌঁছালে তৎকালীন সিটি কলেজ ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী বিএম মহিমের নেতৃত্বে ১৪-১৫টি মোটরসাইকেলে আসা একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে।
তার দাবি, অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে শেখপাড়ার বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ফারাজীপাড়ায় সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলীর বাড়ির গলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদী নামে একজন তার মোবাইল ফোন ও বাবার চিকিৎসার জন্য রাখা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকা দিতে বাধা দিলে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।
রায়হান আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে অটোরিকশায় করে শান্তিধাম ফুল মার্কেটে নেওয়া হয়। সেখানে দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পি, সবুজ, হাসানসহ কয়েকজন চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে রেজা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং সবুজ হাজরা চা-পাতি দিয়ে কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে তার বাম হাতের রগ কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাওয়ার পরও বাধার মুখে পড়েন। এমনকি অপারেশন থিয়েটারে থাকা চিকিৎসকদেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের সহায়তায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গোপালগঞ্জে নেওয়া হয়। সেখানেও বাধার মুখে পড়লে পরবর্তীতে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
রায়হান বলেন, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর তার অসুস্থ বাবা মারা যান। ওই সময় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
রায়হানের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি বিএম মহিম বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত। মামলার তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর গত ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান বিন কামাল চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিএম মহিমকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অপসারণ, সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের দাখিল করা ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ বাতিল, মামলাটি সিআইডি বা পিবিআইতে হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেনকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।