
নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন একটি গ্যাসকূপ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে খনন করা ‘শাহজাদপুর-সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’-এ গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, কূপটিতে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কূপটিতে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরীক্ষা চলছে। এই পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট মজুদ থাকা গ্যাসের পরিমাণ ও উত্তোলন সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাপেক্স সূত্র আরও জানায়, গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়। ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি (MWD) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার জোনে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বুধবার বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় বাপেক্স।
‘শাহজাদপুর-সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আরও দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শেষে কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সুন্দলপুর-সিরাজপুর এলাকায় এর আগেও গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। একই এলাকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বেগমগঞ্জের আলাইপুর-কুতুবপুর ও সোনাইমুড়ীর অম্বনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ চলছে।
নতুন কূপে গ্যাস পাওয়ার খবরে নোয়াখালীজুড়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে নতুন গ্যাসের সন্ধানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
তবে উত্তোলিত গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও আবাসিক চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই কূপটির মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।