ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আগাম আলু চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

আগাম আলু চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন কৃষকরা। জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছেন তারা। অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে বাজারে নতুন আলু বিক্রির লক্ষ্যে বীজ রোপণ ও জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এবার জেলায় ৪৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হবে ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ শেষ করেছেন কৃষকরা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন আরও বলেন, ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা আশ্বিন মাসের শেষ দিকে স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কেটে ওই জমিতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। এবার কৃষকরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জমি প্রস্তুত শেষে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক কৃষকের আলুর বীজ রোপণের ১০ থেকে ১২ দিন পার হয়েছে। রোপণ করা বীজ থেকে ধীরে ধীরে গাছ বের হতে শুরু করেছে। সারিবদ্ধভাবে গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাংলা নবান্নের অগ্রহায়ণের শুরুতেই নতুন আলু দিয়ে নবান্ন উৎসব হবে বলে আশা করছেন অনেক আলুচাষি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এবার আলুর বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যয় বেড়েছে। তারপরও তাঁরা ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি বলেন, চাষাবাদের ব্যয় বাড়লেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কেটে ঘরে তোলার পর ওই জমিতেই আলু রোপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জমি পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ ও বীজ রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা।

বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, তিনি নিজেসহ অধিকাংশ কৃষক প্রস্তুত করা জমিতে আলুর বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার তাঁরা জমিতে অ্যাস্টেরিক ও কার্ডিনাল জাতের আলু রোপণ করছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক মো. মাহামুদ আলী বলেন, এ বছর জমিতে উৎপাদিত আগাম জাতের আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এ কারণে এবার আলু চাষে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। গত বছর সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবার ১২ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছেন। তবে বীজের দাম বেশি থাকায় এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় গতবারের তুলনায় এবার আলু চাষের খরচ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

জেলার একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বছর বাড়তি মুনাফার আশায় তাঁদের মতো অনেকেই আগাম জাতের আলু চাষ করেন। তবে চলতি বছর আলুর বীজের দাম তুলনামূলক বেশি। তারপরও হিমাগার থেকে বীজ কিনে আলু চাষ শুরু করেছেন তাঁরা।

বিরামপুর উপজেলার শ্রমিকরা জানান, উপজেলার বেপারীটোলা গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে তাঁরা অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণ করেছেন। এক বেলা খাবারসহ প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন তাঁরা। এই মজুরির আয় দিয়েই তাঁদের সংসার চলে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার বীরগঞ্জ, খানসামা, বিরল, চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর আলুর চাষ ও উৎপাদন বেশি হয়। কৃষকরা আবাদি জমি ফেলে না রেখে আগেভাগেই আলু চাষ শুরু করেছেন। আগাম জাতের আলু তুলে ওই জমিতে আবার বিভিন্ন ধরনের রবি মৌসুমের শাকসবজি চাষ করবেন তাঁরা।

কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে উঁচু জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন কৃষকরা। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি জাতীয় ফসল চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লাল পাকরি আলুর বীজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং কার্ডিনাল জাতের বীজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিরল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। আগাম জাতের অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল, লাল পাকরি, রোমানা ও ডায়মন্ড জাতের আলু রোপণের ৫৫ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। এসব আলু চাষ করে তুলনামূলক কম সময়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেসব কৃষক সঠিকভাবে জমির যত্ন ও পরিচর্যা করতে পারবেন, তাঁদের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে প্রতিবছর প্রচুর আলু উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলে উৎপাদিত আলুর অর্ধেকেরও বেশি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরও এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষকদের আলু চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দিনাজপুরের কৃষকরা,লাভের স্বপ্ন,আগাম আলু চাষ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত