ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রিন পোর্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং গ্রিনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেডের (জিজিআই) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি।

অন্যদিকে, জিজিআইয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ নূরে আলম।

চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৮ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট পিক উৎপাদনক্ষমতার আধুনিক রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি বিনিয়োগে এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। জিজিআই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অপারেটিং এক্সপেনস (ওপেক্স) মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ফলে প্রকল্পের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো মূলধনি বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে হবে না।

পরিবেশবান্ধব এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ বছর চট্টগ্রাম বন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা, নির্মাণ, পরীক্ষা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জিজিআই। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদা এ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী কার্বন ক্রেডিট অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে সবুজ বন্দরে রূপান্তরের পথ আরও সুগম করবে। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিকল্প বিদ্যুতের উৎস পাবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভজনক হবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ থাকবে।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন,৮.৪২ মেগাওয়াট,চট্টগ্রাম বন্দর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত