
নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বাবা-মেয়েসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মির্জাগঞ্জের মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে তাসপিয়া। শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত শহিদুল ইসলাম মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুবিদখালী থেকে বাসযোগে মাগুরায় যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলামের পরিবার। সেখানে একত্রিত হয়ে ভায়রার বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রাজশাহী যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম ও তার মেয়েসহ ১৪ জন প্রাণ হারান। এ দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও ছেলেসহ অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘আরপি স্পেশাল’ (রোকেয়া) যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ প্রাণহানি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে যাত্রীবাহী বাসটি বনপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রাকটির সঙ্গে বিকট শব্দে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালকসহ ৯ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, বালুবোঝাই ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন।