ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলু চাষে সফলতা

দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলু চাষে সফলতা

দিনাজপুরে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলু চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো গাছ আলুর ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি হয়েছে। কম খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকায় এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ আলুর বীজ সংগ্রহ করে জেলার বীরগঞ্জ, কাহারোল, খানসামা, চিরিরবন্দর, বিরল, বোচাগঞ্জ, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় রোপণ করা হয়েছে।

খানসামা উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান ও টংগুয়া গ্রামের কৃষক খয়রাত আলীকে তাদের জমিতে চাষের জন্য এ আলুর বীজ দেওয়া হয়।

বিলুপ্তপ্রায় এ আলু চাষের জন্য জমিতে জৈব ও গোবর সার দিয়ে প্রস্তুত করে বীজ রোপণ করা হয়। আড়াই মাসের মধ্যে গাছ বেড়ে ওঠার পাশাপাশি আলু ধরতে শুরু করেছে। কোনো কোনো আলুর ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি হয়েছে।

আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গাছ আলু চাষের সফলতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, জেলার সব উপজেলায় স্বল্প খরচে এ আলুর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী, গাছ আলু বিষমুক্ত, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বীজ রোপণের দেড় মাস পর থেকেই গাছে আলু ধরতে শুরু করে। কম খরচে এ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক হতে পারে। বিলুপ্তপ্রায় এ আলুর চাষ আবারও জনপ্রিয় হলে দেশের মানুষের খাবারের সঙ্গে সবজির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা জানান, সময়ের সঙ্গে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় জমির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আঙিনা ও ঘরের আশপাশের ঝোপঝাড় কমে গেছে। একসময় এসব স্থানে প্রাকৃতিকভাবে গাছ আলু জন্মাত। কিন্তু ঝোপঝাড় ও অনাবাদি জায়গা কমে যাওয়ায় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ আলু ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গবেষণা ও চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আবারও গাছ আলুর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষিপ্রধান দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত গাছ আলুর একেকটির ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ২০ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলুর চাষ করেছেন কৃষকরা। এ ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ছোট পরিসরে এ আলুর চাষ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ও টংগুয়া গ্রামে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ঝিনাইদহের স্থানীয় জাতের গাছ আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। ২০ শতক জমিতে প্রায় দুই টন ফলনের আশা করছেন তারা। বর্তমানে প্রতি কেজি গাছ আলুর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ টাকা। কম খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় খুশি কৃষকরা।

গাছ আলু দিয়ে ওল ও গোল আলুর মতো ভর্তা তৈরি করা যায়। এ ছাড়া মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্না করেও খাওয়া যায়। আলুটি সুস্বাদু ও মুখরোচক হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গাছ আলুচাষি খয়রাত আলী বলেন, অল্প খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষি বিভাগের অনুপ্রেরণায় ২০ শতক জমিতে গাছ আলু চাষ করেছেন তিনি। এ ফসল উৎপাদনে তার খরচ হবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, দুই টনের বেশি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

খামারপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় গাছ আলু চাষে লাভ বেশি। স্থানীয় বাজারসহ অন্যান্য এলাকায় এ আলুর চাহিদা থাকায় অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

আলু চাষে সফলতা,গাছ আলু চাষ,দিনাজপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত