ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ফুটপাত-সড়ক দখলে বিপর্যস্ত কাউখালী বাজার, দুর্ভোগে ক্রেতারা

ফুটপাত-সড়ক দখলে বিপর্যস্ত কাউখালী বাজার, দুর্ভোগে ক্রেতারা

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। হাটের দিনগুলোতে বাজারে আসা হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাউখালী বাজারে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে। এ হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, স্বরূপকাঠি ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছিল। মূল সড়কটি নির্ধারিত ছিল যানবাহন চলাচলের জন্য। কিন্তু চিরাপাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশের ফুটপাত অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন।

ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল সাজিয়ে রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে যানবাহন চলাচলের সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে একদিকে পথচারীদের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

এ ছাড়া মূল সড়কের ওপর চাকাযুক্ত ভ্যানগাড়িতে দোকান বসানো এবং ইজিবাইক ও অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে বাজারে আসা মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত দখলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে রেজুলেশনের মাধ্যমে ফুটপাত সব সময় হকার ও দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কিছুদিন ফুটপাত দখলমুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ বাজার থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত অধিকাংশ ফুটপাত ও সড়ক আবারও দখল হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, “বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা হাটের দিনগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যানগাড়ির দোকান ও ফুটপাত দখলমুক্ত করলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।”

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি এবং অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও আশ্বাস দেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে কাউখালী বাজার দখলমুক্ত হবে এবং ক্রেতা-সাধারণের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসবে।

দুর্ভোগে ক্রেতা,কাউখালী বাজার,ফুটপাত-সড়ক দখল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত