ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যশোরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, আহত ৪

যশোরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, আহত ৪

যশোরের শার্শায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর করে ৫ ভরি সোনার গয়না, একটি বিদেশি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে শার্শা উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন সোনানদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তার স্ত্রী জোহরা খাতুন (৪০), ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৫) ও ছেলের স্ত্রী জুঁই খাতুন (২০)।

পরিবারের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ২০১৮ সালে তিনি সোনানদীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে বসতভিটার ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কেনেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিক্রি করা ওই জমির সামনের অংশ থেকে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি তহিদুল গোপনে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে আবার বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে এক জমি দুইবার বিক্রির প্রতিবাদ করলে তহিদুল তাকে হত্যার হুমকি দেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, বুধবার বেলা ৩টার পর গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার ছোট ভাই ও সোনানদীয়া গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে আসাদুজ্জামান এবং তহিদুলের নির্দেশে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে সোনানদীয়া গ্রামের ইয়ানুর রহমানের ছেলে রনি আহম্মদ (৩০), নাসিরের ছেলে সজিব হোসেন (৩০), ইসমাইল হোসেনের ছেলে টুটুল হোসেন (৩৫), শাকিল হোসেন (২৮), মহিদুলের ছেলে নূরনবী (২০), কওছার আলীর ছেলে তপু হোসেন (২৭), মৃত মহিনূরের ছেলে মিন্নু হোসেন (৩০) ও তহিদুলের ছেলে সামাউল (২০) ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি ও মোটরসাইকেলের ডাম্পার নিয়ে বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তাকে, তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রনি হোসেন প্রায়ই অস্ত্র বহন করেন এবং তার বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একাধিক মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। নূরনবী সোনানদীয়া ভাটার মোড়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তারা।

আহত উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করেন, তার বাবা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। তার বাবা বিদেশ থেকে তার মা ও স্ত্রীর জন্য যে পাঁচ ভরি সোনার গয়না নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো ছাড়াও বাড়িতে থাকা নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি বিদেশি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে প্রতিবেশী তাইজুল ডাক্তারের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

উজ্জ্বল হোসেন আরও জানান, হামলাকারীদের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিউল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত ৪,বাড়িতে হামলা,জমি নিয়ে বিরোধ,যশোর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত