ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলনের আশা, পাখি ঠেকাতে নেট

সিরাজগঞ্জে ধানের বাম্পার ফলনের আশা, পাখি ঠেকাতে নেট

সিরাজগঞ্জে এবার ব্রি-১০৩ আগাম জাতের রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে এ ধান পাকতে শুরু করেছে। তবে আধাপাকা ধান খেতে পাখির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেত নেট দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন কৃষকেরা। এতে পাখির উপদ্রব অনেকটাই কমে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে এ আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন। জমিতে চারা রোপণের প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে এ ধান উৎপাদন করা যায়। এ কারণে আগাম জাতের রোপা আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

জেলায় বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-১০৩ জাতের আগাম ধান চাষ করা হয়েছে। শস্যভান্ডারখ্যাত উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ জাতের ধানের চাষ বেশি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর ধরে এ আগাম জাতের ধানের চাষ শুরু হয়েছে। ফলন বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই এর চাষ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা এ ধানের চাষ করছেন।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রতিবছরের মতো এবারও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ব্রি-১০৩ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করেছে। বীজতলায় চারা উৎপাদনের পর জমিতে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে এ ধান রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরাও নিজেদের উদ্যোগে এ ধানের চাষ বাড়াচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ধান গবেষণা কেন্দ্র থেকে ব্রি-১০৩ আগাম জাতের ধানের নামকরণ করা হয়। এ জাতের ধান প্রতি বিঘায় ২৪ থেকে ২৫ মণ উৎপাদন হয়। স্বর্ণা ধানের তুলনায় এ ধান চিকন। এ ধান চাষে সার ও সেচের পানিও কম লাগে। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা আগেভাগেই এ ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন।

ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঠজুড়ে এ ধান পাকতে শুরু করেছে। তবে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আধাপাকা ধান খেয়ে ফেলছে। এমনকি কিছু পাখি ধানক্ষেতে বাসাও বেঁধেছে। পাখির উপদ্রব থেকে ধান রক্ষা করতে কৃষকেরা পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত নেট দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। পাশাপাশি ক্ষেতের মধ্যে ডালপালা ও পুতুল স্থাপন করছেন।

ইতোমধ্যে অনেক স্থানে এ ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগাম জাতের এ ধান ঘরে তোলার পর কৃষকেরা রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করবেন।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ব্রি-১০৩ আগাম জাতের ধান চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এ জাতের ধান চাষে প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার এ ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আধাপাকা ধানক্ষেতে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে কৃষকেরা নেট ব্যবহার করছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শেই তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

পাখি ঠেকাতে নেট,বাম্পার ফলন,ধান,সিরাজগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত