
দিনাজপুরের বিভিন্ন মাঠে একই জমিতে বছরে চারটি ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। আগাম জাতের ধান চাষের পর সেই জমিতে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করছেন তারা। এতে অর্থনৈতিকভাবেও সচ্ছলতা আসছে তাদের।
চিরিরবন্দরের গার্মেন্টস বাজারসংলগ্ন এলাকায় বিনা-১৭ জাতের আগাম ধান চাষ করে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে প্রায় দুই একর জমিতে এ জাতের ধানসহ অন্যান্য জাতের ধান আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আব্দুল খালেক। ইতোমধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান পেকে যাওয়ায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন তিনি। তার দাবি, প্রতি একর জমিতে প্রায় ৫৫ থেকে ৫৬ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। ধান কাটার পরপরই ওই জমিতে আগাম আলু চাষ করবেন তিনি।
কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, জুলাই মাসের প্রথম দিকে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেন তিনি। এরপর জমিতে সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করেছেন। মাত্র ১১৫ দিনের মধ্যেই ধান কাটতে পারছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাই ও চিটা তেমন দেখা যায়নি। হারভেস্টার দিয়ে জমি থেকেই ধান কেটে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় শ্রমিকের প্রয়োজন ও সময়—দুটিই কম লাগছে।
বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি বস্তা ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায়। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
আব্দুল খালেক আরও বলেন, ধান কাটার পরই আগাম আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। এবার ধান চাষের খরচ মেটাতে পারছেন। আগামী মৌসুমেও বিনা-১৭ জাতের ধান আবাদ করতে চান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা ধানের সোনালি শিষে ভরে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার পর খড় জমিতেই পড়ে থাকছে। অন্যদিকে, কাটা ধান বস্তাবন্দি করে রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ধান নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কৃষকের নিজস্ব মিল-চাতালে। দ্রুত ধান কেটে জমি খালি করতে পারায় পরবর্তী ফসল আবাদেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা।
প্রতিবেশী কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, আব্দুল খালেকের জমিতে ধানের ফলন দেখে ভালো লাগছে। ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারলে একই জমিতে আগাম আলু চাষ করা সম্ভব। এতে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। আধুনিক কৃষির জন্য এটি আশাব্যঞ্জক।
স্থানীয় আরেক কৃষক সবুজ রানা বলেন, তাদের জমিতে এখনো ধানের শিষ বের হচ্ছে। অথচ পাশের জমিতে আব্দুল খালেকের ধান কাটা হয়ে গেছে। তার জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। এভাবে আগাম জাতের ধান চাষ করতে পারলে একই জমিতে পরবর্তী ফসল আবাদের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। তার জমির ফলন দেখে আগামীতে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন তারা।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা পাকা ধান কাটা শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, প্রতি একর জমিতে প্রায় ৫৫ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে বলে মাঠপর্যায়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আগাম জাতের ধান চাষে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানির সহায়তায় ধান আবাদ করা গেলে সেচের খরচও কমতে পারে।
আগাম ধান বিক্রি করে কৃষকরা পরবর্তী ফসলের বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার অর্থ জোগাড় করতে পারছেন। বিশেষ করে বিনা-১৭ জাতের ধানের ফলন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।