ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে ৭

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে ৭

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মহবুবুর রহমান, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস রেজাউল আলম, সাবেক পোস্টাল অপারেটর এসএম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল অপারেটর বিউটি রানী দাস ও নুরুল মাসুদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকরা ডাকঘরে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করার জন্য টাকা জমা দিলে তাদের টাকা গ্রহণ করে রসিদ দেওয়া হতো। কিন্তু ওই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকরা জমা করা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে নাছরিন আক্তার গত ৩০ জুলাই রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার মামলার ধার্য তারিখে ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অর্থ আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার হাজিরার দিন সাত আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে, টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রাহকদের জমা করা অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ী আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক। এতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের জমা করা অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা নিরাপদ মনে করে তারা ডাকঘরে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর থেকে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো টাকা ফেরত পাননি। এতে অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং সংসারে অশান্তি দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার করে তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার বাকি ছয় আসামির বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কী হবে, তা আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

কারাগারে ৭,আত্মসাৎ,দেড় কোটি টাকা,রাজবাড়ী ডাকঘর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত