
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলায় সার্কাস ও যাত্রাপালায় অশ্লীলতা প্রদর্শনের অভিযোগে অবশেষে মেলাটি বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার রাতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে কাজিপুর উপজেলার ওই মেলায় অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের নির্দেশে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর দুর্গাপূজার পর সোনামুখী হাটে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কাঠের আসবাবপত্র কেনাবেচার জন্য পরিচিত এ মেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
এবারও মেলার পাশাপাশি দুটি মঞ্চে সার্কাস ও যাত্রাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন করা হয়। ১৫ দিনের জন্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মেলার মেয়াদ শেষ হলেও সার্কাস ও যাত্রার আয়োজন চলছিল। এসব আয়োজনে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, অধিক দামে টিকিট বিক্রি করে বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিন দফায় সার্কাস দেখানো হতো। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত টিকিটের মাধ্যমে যাত্রাপালা পরিবেশিত হতো। সার্কাস ও যাত্রায় অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসন মেলার অনুমতি দেওয়ার সময় আয়োজকদের বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল। তবে আয়োজকরা এসব শর্ত ভঙ্গ করে অশ্লীল কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন মেলা বন্ধের নির্দেশ দেয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক মেলা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা পুনরায় মেলা চালুর অনুমতি চেয়েছেন।
মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম তোতা সাংবাদিকদের বলেন, ষড়যন্ত্র করে ছড়ানো ভিডিও ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এ মেলা বন্ধ করা হয়েছে। এতে কাঠের আসবাবপত্রের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে তিনি দাবি করেন।