
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক সোহেল (৪১) কে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সাইনবোর্ড এলাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সুজন জেন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম (৪০)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সোহেল সোনারগাঁও থানার সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের পুত্র। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি মাসের ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে অটোরিকশা চালা চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ২০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমারফতে জানা যায়, জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর গ্রামের তিলাবুমুহায়চর সড়কের পাশে ঢালে একটি মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্রধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
তিনি জানান, চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা সোহেলকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে নানাবি বাজার থেকে আনন্দ বাজার যাওয়ার কথা বলে তারা যাত্রীবেশে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে।
পথিমধ্যে কোমল পানীয় 'স্পিড' এর সঙ্গে কাশির সিরাপ মিশিয়ে সোহেলকে সেবন করান। একপর্যায়ে সোহেল অচেতন হয়ে পড়লে তার হাত, পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে রহিম মিয়া ও আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।