অনলাইন সংস্করণ
১৮:১৫, ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার পর প্রথম দুদিনে বড় ধরনের গ্রাহক চাপ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে। এটি মূলত গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকটি পূর্ণমাত্রায় লেনদেনের জন্য খুলে দিলে কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত কার্যক্রম খুবই সুন্দর ও স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে। নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’
গভর্নর জানান, সাধারণভাবে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই), ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ড স্থাপন ও লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুন করে প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশের আওতায় ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।
দুই দিনের লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন লেনদেন হয়েছে। এতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি এক্সিম ব্যাংক থেকে ছয় হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। ফলে নেট হিসাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও উত্তোলনের চেয়ে আমানতের পরিমাণ বেশি ছিল। এটি প্রমাণ করে যে গ্রাহকদের নতুন ব্যাংকের প্রতি আস্থা রয়েছে এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে জনগণ বিশ্বাস রাখছে।