
নতুন সরকার গঠনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। তাদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোনো ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
দুপুরে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে কার্যসূচি পরিবর্তন করা হয়। সভায় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত নম্বর সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তবে, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনের পর বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অফিস আদেশ জারি করে জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে ব্যাংক-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, জরুরি সভায় শুধু অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালে মাত্র একদিনের নোটিশে জরুরি সভা ডাকা হয়, যা স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান গভর্নর অতীতে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়, যা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করা, কার্ড ইস্যু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ তোলা হয়।
কাউন্সিল জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না এবং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক সময়ে এমন বড় সিদ্ধান্ত আইন ও রীতির পরিপন্থি।
তাদের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অনেক ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়।
আবা/এসআর/২৫