অনলাইন সংস্করণ
১৯:৪৫, ২৪ মার্চ, ২০২৬
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবাহ দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, এই সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ২৮২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৮৩ কোটি ডলারের সমান।
তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩ মার্চ—এই আট দিনে দেশে এসেছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে মাসের শুরু থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের ১ থেকে ২৩ তারিখে দেশে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এবার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা সাধারণত পরিবার-পরিজনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এ কারণে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় কিছুটা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রফতানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
তবে তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।