
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনে ২০ দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে আব্দুল মঈদ বাবুল ও মোজাম্মেল হক তোজাম প্যানেল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল মঈদ বাবুল। এসময় প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোজাম্মেল হক তোজামসহ অন্যান্য পদপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুল-তোজাম প্যানেলের প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারগুলো হলো— কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ, বেতন স্কেলের অসংগতি দূর করা এবং অফিসের পূর্বের সময়সূচি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি পদোন্নতির সময়সীমা নির্ধারণ, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১ কর্মকর্তার আদেশ প্রত্যাহার এবং ৪% লোনের সঙ্গে কর্পোরেট লোনের সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা সেল গঠন, পদোন্নতি কার্যকর করার সময়সীমা ১ বছর করা এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল নীতিমালার সমন্বয়ের প্রস্তাব রাখা, কর্মকর্তাদের পরীক্ষার পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, ইমামদের পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করা এবং টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের নন-টেকনিক্যালদের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, নতুন পদ সৃষ্টি, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, উন্নতমানের ক্যান্টিন ও মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য নামাজ কক্ষ স্থাপন, পদমর্যাদা অনুযায়ী অফিস সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বেনাভোলেন্ট ফান্ডের সুবিধা বাড়ানো, দলমত নির্বিশেষে সকল কর্মকর্তা যেন নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে চাকরি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কল্যাণ তহবিলের অর্থ যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসময় সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল মঈদ বাবুল বলেন, দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় কর্মকর্তারা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের জোরালো দাবির মুখেই মূলত এবারের নির্বাচনের আয়োজন এবং এতে ‘মঈদ বাবুল-তোজাম’ পরিষদ অংশগ্রহণ করছে। আমাদের ইশতেহারের প্রধান দাবি হলো কর্মকর্তাদের চাকরির মেয়াদকাল ৬২ বছর নিশ্চিত করা।
নির্বাচিত হতে পারলে আমরা প্রশাসনের কাছে কর্মকর্তাদের সব ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকব। কর্মকর্তা সমিতি হবে প্রতিটি কর্মকর্তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেখানে তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা একে অপরের ভাই। তাই সরকারি বা বিরোধী দল—এ ধরনের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে কর্মকর্তাদের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মকর্তাদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে।
উল্লেখ্য, আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৬-২৭ সেশনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।