
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। কম খরচে লাভজনক এই মসলা ফসল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের মসলা জাতীয় পণ্যের চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, উন্নতমানের বীজ ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে জিরা চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার সীমান্তঘেঁষা খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের সাতকুড়ী গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান অনলাইনের মাধ্যমে জিরার বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো চাষ শুরু করেন। মাত্র ২ শতক জমিতে চাষ করে তিনি প্রায় সাড়ে তিন কেজি জিরা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো জিরা চাষ হয়নি। অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করি। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারের জিরার তুলনায় আমার উৎপাদিত জিরার সুগন্ধ ও স্বাদ অনেক ভালো। এখন এলাকার অনেকেই আমার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জিরা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম আমাদের এলাকায় জিরা চাষ দেখলাম। ছোট ছোট গাছে প্রচুর জিরা ধরেছে। আমিও আগামীতে জিরা চাষ করতে চাই। কম খরচে এবং কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়, এটা আমাদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
অন্যদিকে তাসির উদ্দিন বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসল চাষ শুরু করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সীমান্ত অঞ্চলে জিরা চাষের এই সাফল্য অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম জানান, উন্নতমানের বীজ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মসলা ফসলের চাষ বাড়লে এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে জিরা চাষের এই সফলতা কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। কৃষকদের আগ্রহ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হিলি অঞ্চলে জিরা একটি লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।