ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাবিতে সংঘাত এড়িয়ে কৌশলী অবস্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

রাবিতে সংঘাত এড়িয়ে কৌশলী অবস্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এখন পর্যন্ত দুই সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে সতর্ক ও কৌশলী অবস্থানে রয়েছে উভয় সংগঠন।

সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে রাবিতে দুই সংগঠনের মধ্যে মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও তা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি।

ক্যাম্পাসে আবাসিক হল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে ঘিরে উভয় সংগঠনই নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন বিবেচনায় উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সম্প্রতি হল দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় ছাত্রশিবির মানববন্ধন করলেও ছাত্রদল অভিযোগ অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টর কার্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, রাকসু ভবনে হামলা এবং পরে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব ঘটনার জন্য ছাত্রদল ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

সংঘাত চায় না ছাত্রদল

ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ছাত্রদল দায়িত্বশীল আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী। কোনো উসকানিতে সংগঠন সিদ্ধান্ত নেয় না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, সংগঠনের নীতি ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাদের লক্ষ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সংঘাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় শিবির

রাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তারা কাজ করছেন। রাবির শান্ত পরিবেশ যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কোনো সংঘাতে তারা জড়াতে চান না।

তিনি বলেন, কেউ উসকানিমূলক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলেও শিবির তাতে পা দেবে না। কেউ সংঘাতে জড়াতে চাইলে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সতর্ক প্রশাসন

ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন উভয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান।

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। রাজনৈতিকভাবে সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বর্তমানে কোনো ধরনের আশঙ্কা দেখছি না। ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে রাবিতে দুই সংগঠনের এই সতর্ক অবস্থান অব্যাহত থাকলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির,কৌশলী অবস্থান,রাবিতে সংঘাত
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত