ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন বেরোবির শিক্ষার্থী পবিত্র বারমান

জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন বেরোবির শিক্ষার্থী পবিত্র বারমান

জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট স্কলারশিপ অর্জন করে দেশটির রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী পবিত্র বারমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা ও সদর উপজেলায়।

পবিত্র বারমান জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MEXT) অধীন মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট স্কলারশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি জাপানের রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করবেন।

পবিত্র বারমান অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কম্পিউটার সিস্টেমস বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রাপ্ত স্কলারশিপ সনদ অনুযায়ী, তিনি সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ে মেক্সট স্কলার হিসেবে ভর্তি হবেন। স্কলারশিপের আওতায় তার টিউশন ও ভর্তি ফি মওকুফের পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যয় এবং থাকা-খাওয়ার জন্য মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের সুবিধাও পাবেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে থাকতেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন পবিত্র বারমান। এরপর ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। কোনো একটি সমস্যা নিয়ে কাজ করা, নিজে সমাধান খুঁজে বের করা এবং নতুন কিছু জানার চেষ্টা থেকেই গবেষণার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় তাঁর।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে পবিত্র বারমান বলেন, ‘জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MEXT) স্কলারশিপ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই গবেষণার প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। কোনো একটা সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকা, নিজে নিজে সমাধান খুঁজে বের করা এবং নতুন কিছু জানার চেষ্টা—এসবের মধ্যেই এক ধরনের আনন্দ খুঁজে পেতাম। এজন্য ছুটি, অফডে সব মিলিয়ে দিন-রাত নিজের ভালো লাগা থেকেই ল্যাবে কাজগুলো করেছিলাম।’

গবেষণার এ যাত্রায় তাঁর থিসিস সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পবিত্র বারমান বলেন, ‘আমার গবেষণার শুরুটা ফেরদৌস রহমান স্যারের হাত ধরে। উনি যখন যা প্রয়োজন আমাকে সেভাবে কানেক্টেড করে দিয়েছেন এবং আন্তরিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার। উনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

জাপানে যাওয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমার ইচ্ছা ছিল এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চ ভালোভাবে শেখার। জাপানে আমি হয়তো সেই সুযোগ পাবো। জাপান সরকারের একজন মেক্সট স্কলার হিসেবে সামনের সেপ্টেম্বর ইনটেক থেকে আমার উচ্চশিক্ষার জার্নি শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অর্জনের জন্য আমার পরিবার, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমি অনেক ভালো শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেয়েছি। তাদের কাছে মন থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।’

পবিত্র বারমানের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক এবং বেরোবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক তৈরির জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আমরা তার শুরু করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীর এই অর্জনে আমরা খুবই আনন্দিত। এটা শুধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, দেশের জন্যও একটি গর্বের ব্যাপার। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

উল্লেখ্য, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়ও স্থান পেয়েছেন।

পবিত্র বারমানের এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনাকেও সামনে এনেছে। জাপান সরকারের মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে তাঁর নতুন এ যাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে উঠেছে।

পবিত্র বারমান,বেরোবির শিক্ষার্থী,উচ্চশিক্ষার সুযোগ,জাপান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত