অনলাইন সংস্করণ
১৬:৪৪, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বলিউডের শীর্ষ ধনী অভিনেতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন হৃতিক রোশন। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, তার বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি রুপি। তালিকায় শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন ও সালমান খানের ঠিক পরেই চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন তিনি। অভিনয় ছাড়াও নিজের ‘এইচআরএক্স’ ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে হৃতিকের সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না।
১৯৯৭ সালে শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘কয়লা’ সিনেমা মুক্তির পর তার বাবা ও পরিচালক রাকেশ রোশন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বাবার কঠিন দিনগুলো নিয়ে হৃতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বাবা তার সমস্ত উপার্জন হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমি নিজ চোখে বাবাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখেছি।’
আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছিল তাদের জীবনযাত্রাতেও। ২০০৬ সালে সিমি গারেওয়ালের এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানিয়েছিলেন, একসময় তাদের বাড়িভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। সেসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হৃতিকের মা পিংকি রোশন তাকে ও তার বোনকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান। অন্যদিকে, রাকেশ রোশন যান তার মায়ের কাছে।
দিনকয়েক পর তারা নতুন একটি বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু সে বাড়ির ভেতরে তখন দেওয়াল আর মেঝে ছাড়া কিছুই ছিল না। হৃতিক জানান, ‘আমরা প্রথমে মেঝেতে মাদুর পেতে ঘুমাতাম। ধীরে ধীরে ঘরের আসবাবপত্র কিনেছিলাম।’
হৃতিকের বাবা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নেন ছেলেকে বড় পর্দায় আত্মাপ্রকাশ করার সময়। ২০০০ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ বানাতে বাজেটের চেয়ে প্রায় তিন কোটি রুপি বেশি খরচ হয়ে গিয়েছিল। খরচ মেটাতে নিজের বাড়ি ও গাড়ি বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন রাকেশ।
পরিচালক রাকেশ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সিনেমার কাজ প্রায় শেষের দিকে এলে মা জানান, আমাদের বাড়ি ও গাড়ি বন্ধক রাখা হয়েছে। সিনেমাটি যদি সফল না হতো, তবে আমাদের অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু আমি ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম।’
শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকি বৃথা যায়নি। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ সুপারহিট হয়। এ সিনেমার হাত ধরে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান হৃতিক। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘কই মিল গয়া’, ‘কৃশ’, ‘ধুম ২’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’, ‘কৃশ ৩’, ‘ওয়ার’।