ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হাম কীভাবে ছড়ায়, জানুন প্রতিরোধের উপায়

হাম কীভাবে ছড়ায়, জানুন প্রতিরোধের উপায়

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত ‘মরবিলি’ (Morbilli) ভাইরাসের কারণে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন হামে আক্রান্ত ব্যক্তি তার আশপাশে থাকা অন্তত ৯ থেকে ১০ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন, যদি তারা টিকা না নিয়ে থাকেন। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এই রোগটি শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

হাম ছড়ানোর প্রধান মাধ্যমগুলো-

হাম মূলত বাতাস এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান মাধ্যমগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-

১. বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ (Airborne) : হামে আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কথা বলেন, কাশি দেন বা হাঁচি দেন, তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা (Droplets) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও সেই স্থানে থাকা সুস্থ ব্যক্তি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারেন।

২. সরাসরি সংস্পর্শ : আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা মুখ থেকে নিঃসৃত তরল যদি সুস্থ কোনো ব্যক্তির হাতে বা শরীরে লাগে, তবে সেখান থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত রুমাল, তোয়ালে বা কাপড় সরাসরি ব্যবহারের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

৩. স্পর্শ করা পৃষ্ঠতল (Contaminated Surfaces): ভাইরাসযুক্ত ড্রপলেটগুলো যদি কোনো টেবিল, দরজার হাতল বা আসবাবপত্রের ওপর পড়ে, তবে সেখানেও এটি বেশ কিছুক্ষণ সক্রিয় থাকে। সেই স্থানে হাত দেওয়ার পর নাকে বা মুখে হাত দিলে সুস্থ ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন।

সংক্রমণের সময়সীমা : হামের একটি বিশেষ দিক হলো, শরীরে লালচে দানা বা র‌্যাশ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের শরীরে ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেন। আবার র‌্যাশ বের হওয়ার পর পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত তিনি সংক্রামক থাকেন। অর্থাৎ, রোগী নিজে বোঝার আগেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রতিরোধের উপায় :

হাম থেকে বাঁচার একমাত্র এবং কার্যকর উপায় হলো এমএমআর (MMR) টিকা গ্রহণ করা। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকার ডোজ সময়মতো সম্পন্ন করা অত্যন্ত আবশ্যক।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন : তীব্র জ্বর, শুকনো কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ছোট ছোট লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে টিকা সংগ্রহ, কোল্ড চেইন নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সফল বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঠিক তথ্য প্রচার এবং গুজব প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়া হায়দার, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

হাম,রোগ,ছোঁয়াচে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,প্রতিরোধ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত