অনলাইন সংস্করণ
২১:২৭, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণের পরপরই ইরানের আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ নিশ্চিত করেছেন, তাদের সামরিক বাহিনী ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘শক্তিশালী হামলা’ চালিয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অর্ধেক আসে। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, আলোচনার মধ্যেও হামলার ক্ষেত্রে ইরান কোনো ছাড় পাবে না।
গত ১৮ মার্চও একই স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। কাতার ও ইরানের যৌথ মালিকানাধীন সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম হিসেবে পরিচিত।
হোয়াইট হাউজ এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। মার্চের আগের হামলার পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল আর সেখানে হামলা করবে না, তবে সতর্ক করেছেন, ইরান যদি কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ চালাতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুরো গ্যাসক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারে।
এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বোমাবর্ষণ করেছে। শহরের আজাদি স্কয়ারের কাছে অবস্থিত শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে বিমান হামলার পর কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদমি এবং কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরি রয়েছেন।
ইরানও এ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও মিসাইল ছুঁড়লে দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তা প্রতিহত করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান