অনলাইন সংস্করণ
১৭:১৬, ১৭ মে, ২০২৬
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। তবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি পদত্যাগ করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মহলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করেই স্টারমার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত করতে চান না তিনি। একই সঙ্গে মর্যাদা বজায় রেখে নিজের সুবিধাজনক সময়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচিও নির্ধারণ করতে পারেন।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদক ড্যান হজেসকে মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, স্টারমার বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতি আর বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মন্ত্রিসভার আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রাথমিক জনমত ও প্রচারণার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্টারমারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহযোগী।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক দপ্তরপ্রধান মরগ্যান ম্যাকসুইনি তাকে আরও কিছুদিন দায়িত্বে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এক সমর্থক দাবি করেছেন, স্টারমার উপনির্বাচনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। কারণ, পরে পদত্যাগ করলে তা ব্যক্তিগত মর্যাদার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়ী হলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে তার চাপেই স্টারমার সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। দলটির একাধিক আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তার প্রতি অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেন। এখন পর্যন্ত চারজন মন্ত্রী দায়িত্ব ছেড়েছেন, যা স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই নেতৃত্ব সংকটে রয়েছে লেবার পার্টি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর আস্থা নেই। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য সরকারের অজনপ্রিয়তাকেই দায়ী করেন তিনি।