ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইরানি মিত্রদের সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

ইরানি মিত্রদের সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একযোগে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা করছে সৌদি আরব। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে এই সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়াদের জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র।

রয়টার্স ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সৌদির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে বলেন, সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে হুতিদের হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, এক ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও এক পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, জাহাজ চলাচলের জন্য আপাতত তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরান উপকূল এবং বের হওয়ার সময় ওমান উপকূল ব্যবহার করবে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর দুটি লেনই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ কেবল একটি একক কেন্দ্রীয় করিডোর দিয়ে যাতায়াত করবে। হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলো ইরান এককভাবে এবং বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান যৌথভাবে তদারকি করবে।

তবে এই দ্বিপক্ষীয় ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রণালিটি উন্মুক্ত হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। রাষ্ট্রীয় মাধ্যম আইআরএনএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রণালিতে মুক্ত চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করা।

এদিকে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো দ্বিতীয় করিডোর তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও জাহাজ সরাসরি আঘাতের মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিতে একটি নতুন খসড়া বিল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজসহ ইরানের ক্ষতি করা যেকোনো দেশের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারী কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরানি মুদ্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আবা/এসআর/২৬

সমন্বিত হামলা,আশঙ্কা,সৌদি আরব
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত