অনলাইন সংস্করণ
১৫:৪১, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বেএমকেজি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ২৩ মিনিটে জাকার্তার থাউজেন্ড আইল্যান্ডসের (কেপুলাউয়ান সেরিবু) ৬৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে জাভা সাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৬৮ কিলোমিটার নিচে।
বিএমকেজি-এর ভূমিকম্প ও সুনামি পরিচালক ড. উইজায়ান্তো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের অবস্থান এবং এর হাইপোসেন্টারের গভীরতা বিবেচনা করে দেখা গেছে, এটি ছিল ইন্ট্রাস্ল্যাব অ্যাক্টিভিটির কারণে সৃষ্ট একটি গভীর ভূমিকম্প। ফলে সুনামি মডেলিংয়ে কোনো সুনামির হুমকি দেখা যায়নি।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা এত ছিল যে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জার্কাতাসহ জাভা ও সুমাত্রার কিছু অংশেও অনুভূত হয়। তবে এই ভূমিকম্পের প্রভাবে তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, জানালা ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি ছাড়া বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রসঙ্গত, ভৌগলিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে। ইউরোপ ও এশিয়ার টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে কারণে এই অঞ্চলটি এমনিতেই বেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। তার ওপর দেশটিতে রয়েছে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এসব কারণে ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দাদের নিয়মিতই ভূমিকম্প মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়।
গত কয়েক মাসে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক বড় ভূমিকম্প ঘটেছে। গত আগস্ট মাসেও দেশটির তেনেগ্গারা প্রদেশের পূর্ব নুসার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এতে একাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়ে এবং অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।