ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করল অস্ট্রেলিয়া

স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করল অস্ট্রেলিয়া

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়ম আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন নিয়মে এখন থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর তাদের সঙ্গে পরিবারকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না। একই সাথে, যারা দেশটিতে থাকার মেয়াদ বাড়াতে চান, তাদেরকে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো কোর্সে ভর্তি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নতুন নিয়মগুলো ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ হলেও এর ওপর ‘উচ্চমাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার বিষয়ে টনি বার্ক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারবেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াব না।’

শুধু পরিবার নেওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার্থীদের ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। এক কোর্স থেকে অন্য কোর্সে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় উচ্চতর যোগ্যতার কোর্সে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়াও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাগরিক এবং নির্দিষ্ট কিছু উচ্চতর শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদেরও বিশেষ সুবিধার আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটির নিট বিদেশি অভিবাসন ৩ লক্ষ থেকে কমিয়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থানভিত্তিক অস্থায়ী ভিসা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার নিয়মও আরও কঠোর করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে এসব ভিসাধারী শ্রমিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব ভিসার ক্ষেত্রে ব্যালট পদ্ধতি চালু করা হবে। তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে না।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা একটি অস্থায়ী ভিসা, যার মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা, আর কিছু দেশের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ১২ মাস অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস, কাজ ও ভ্রমণ করতে পারেন। ভ্রমণের পাশাপাশি কাজ করে ভ্রমণের খরচ চালাতে চান, এমন তরুণদের জন্য বিশেষভাবে এই ভিসা চালু করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশটিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার ছিল নির্ভরশীল বা পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে এই সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া,সুযোগ বন্ধ,পরিবার নেওয়া,স্টুডেন্ট ভিসায়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত