
আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বার-বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে আইনজীবীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিচারকদের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের সমস্যা হচ্ছে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে।’
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে বিচারপ্রার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিচারপ্রার্থীরা যেন সেসব আদালতে প্রবেশ না করেন। একই সঙ্গে আইনজীবী সহকারীদেরও বর্জন করা আদালতে তদবির না করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় কর্মসূচির আগে বক্তব্য দেন সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির, শিরিন আক্তার মুক্তা, আবু বকর, মাসুদ প্রধানিয়া, আতিকুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যরা।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রায় সাড়ে চার শ আইনজীবীর উপস্থিতিতে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন আইনজীবীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের নবম দিনে বৃহস্পতিবার কালো ব্যাজ ধারণ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা।
আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তে থাকা তিন বিচারক হলেন—চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধন এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক শম্পা ইসলাম।