
ঈদুল আজহা মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ জোহর নামাজের সময় শুরু হওয়ার আগে ঈদের নামাজ পড়তে হয়। ঈদুল আজহার অন্যতম ওয়াজিব আমল কোরবানি, আরেকটি ওয়াজিব আমল হলো ঈদের নামাজ।
ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত। এ নামাজ পড়া ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা জায়গায় পড়া উত্তম। মসজিদেও পড়া যায়। নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। জামাত ছাড়া ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। এ নামাজ পড়তে আজান-ইকামত লাগে না। উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াত করতে হয়, যেমন জুমার নামাজে করা হয়। নামাজের পর খুতবা পাঠ করতে হয়। জুমার নামাজে খুতবা পড়া হয় নামাজের আগে।
ঈদের নামাজের নিয়ত
মনের ইচ্ছায় নিয়ত। যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন মানুষের মাথায় থাকে কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করছে সে। ঈদুল আজহার নামাজে দাঁড়ানোর সময় আমাদের স্মরণে থাকে, আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি—এই স্মরণটাই মূলত নিয়ত। এই নিয়তের সঙ্গে মনে রাখতে হবে—‘ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং এ নামাজে ছয় তাকবির আছে।’ এভাবে নিয়ত করা যায়, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা। যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়। আরবি নিয়তটি হলো—
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া, লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল আজহায়ি, মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি, ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা, ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতা ওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল, কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি—আল্লাহু আকবার।
ঈদের নামাজের নিয়ম
১. শুরুতে ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধবেন।
২. সানা পড়বেন। সানা হলো—‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
৩. সানা পড়ে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেবেন।
৪. এরপর আউজুবিল্লা-বিসমিল্লাহ পড়বেন।
৫. সুরা ফাতিহা পড়ে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।
পরে নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।
দ্বিতীয় রাকাত
১. শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করবেন।
২. যে কোনো একটি সুরা পড়বেন।
৩. সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এরপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধবেন।
৪. এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবেন।
৫. সিজদা আদায় করে তাশাহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।
ঈদের দোয়া
ঈদুল আজহার নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবির বা দোয়া পাঠ করা মুস্তাহাব। নামাজের আগ পর্যন্ত তাকবির পাঠ অব্যাহত রাখা সওয়াবের কাজ। তাকবিরটি হলো—
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয় বড়। তিনি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সকল প্রশংসা তাঁর। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ৫৬৭৬)
ঈদের খুতবা
ঈদের নামাজ আদায়ের পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন। মুসল্লিদের নৈতিক দায়িত্ব হলো, মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজের পর খুতবা দিতেন। আব্দুল্লাহ বিন সায়েব (রা.) বলেন, ‘ঈদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের নামাজ পড়িয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, আমরা নামাজ শেষ করেছি। যার ইচ্ছা সে খুতবা শোনার জন্য বসবে। আর যে চলে যেতে চায়, সে চলে যাবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১২৯৩)
আবা/এসআর/২৬