
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দীর্ঘদিনের নিরলস সাধনা এবং সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমির সদস্য পদ লাভ করেছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর। তার এ অর্জনে সাহিত্যপ্রেমী, পাঠক, লেখক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা আনন্দ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বাংলা কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ রচনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যাঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন আহমেদ সৈয়দ শাহনুর। তার লেখায় মানবিক মূল্যবোধ, সমাজবাস্তবতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রেম, জীবনসংগ্রাম এবং প্রবাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা গভীরভাবে উঠে এসেছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর (বুধরাইল) গ্রামের সন্তান আহমেদ সৈয়দ শাহনুর সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লিডসে বসবাস করলেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৯টি। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখার মাধ্যমে তিনি পাঠকমহলে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তার কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকের সুখ’ পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সাময়িকী এবং সংবাদপত্রে লিখে থাকেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জাতীয় কবিতা পরিষদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখে চলেছেন আহমেদ সৈয়দ শাহনুর। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তার একনিষ্ঠ সাধনা তাকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে পরিচিত ও সম্মানিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা একাডেমির সদস্য পদ লাভের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বলেন, “বাংলা একাডেমির সদস্য পদ লাভ আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমি এ স্বীকৃতিকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা হিসেবে দেখছি। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চাই।”