অনলাইন সংস্করণ
১৫:০১, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কন্ঠে কথা বলতে পারছে। অবশ্যই সমালোচনার কিছু কিছু যৌক্তিক দিক আছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনাটা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। ১০টা জিনিসের যদি সরকার ৪টা জিনিস করে, ৪টা করেছে সেটা বলেন, এরপর যে ৬টা করতে পারে নাই সেটার জন্য সমালোচনা করেন। কিন্তু এরকম কিছুই দেখবেন না।
বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এখন বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট অ্যালোকেশনসহ সবকিছু উচ্চ আদালতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সংস্কার না? রাষ্ট্রের এত বড় একটা অঙ্গের বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটা কোনো সংস্কার না? এটা কি আপনাদের মনে হয় না বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একসময় ভূমিকা রাখবে? সংস্কার ম্যাজিক লাইট না যে সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকা রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকার গুম কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা অসাধারণভাবে কাজ করেছে। এই কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা একটা হিউম্যান রাইটস কমিশন ল করেছি। আমি আপনাদের প্রত্যয়ের সঙ্গে বলি, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো হিউম্যান রাইটস আইনের চেয়ে আমাদের আইনটা বেটার হয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা এই আইন অনুযায়ী অচিরেই হিউম্যান রাইটস কমিশনে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এটা কি কোনো সংস্কার না? আমাদের এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?