
অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ডিগ্রি অর্জনই তরুণদের শেষ দায়িত্ব নয়। সমাজের একটি বড় অংশ এখনো উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আরও বেশি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনাপ্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত সমাবর্তন সভাপতি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে।
গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটে হ্যাঁ–না ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার না হলে পুরনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে—এ কারণে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও সবাই তা নিয়মিত পাচ্ছে না। ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে; তাই সরকার দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও নদী-নালা, খাল-বিল ভরাটের ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের কারণে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
ফরিদা আখতার বলেন, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি অক্সিজেন-স্বল্প অঞ্চল ও প্লাস্টিক দূষণ মাছসহ সামুদ্রিক অন্যান্য প্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। পর্যটনের সময় সমুদ্রে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা মারাত্মক অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।