অনলাইন সংস্করণ
১৬:৫০, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৬। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক বা ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, ডিজিটাল ও অনলাইনে সংঘটিত আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপকে যৌন হয়রানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
খসড়ায় অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালে অভিযোগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে।
অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, বিশেষ করে অসংগঠিত খাতে, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসব কমিটি গঠিত হবে, যাতে নাগরিকেরা কার্যকরভাবে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান।
অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা এবং সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন আচরণ বা নির্যাতন এবং আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। খসড়াটিতে সাতটি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এতে আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনগত সহায়তা এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা সীমিত করার লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা আদেশ দিতে পারবে এবং তদন্ত শেষে স্থায়ী আদেশ জারি করা যাবে। নির্ধারিত ফরমে অভিযোগ গ্রহণের পর সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।