অনলাইন সংস্করণ
১৯:০৮, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাত দফা পরিকল্পনা তুলে ধরল বিএনপি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সফল হওয়ার জন্য, ভালো কিছু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দল করতে হবে না। যাদের মেধা রয়েছে, বৈষম্যহীনভাবে প্রত্যেকের জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে সুযোগ আসবে। সেই সুযোগ তৈরির প্রত্যয় নিয়েই বিএনপি বিভিন্ন পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। আমাদের চেয়ারম্যান দেশে এসেই তার ঐতিহাসিক বক্তব্যে বলেছেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। সেই প্ল্যানটিই হচ্ছে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, শিক্ষার মান বাড়াতে এআইভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম, তাৎক্ষণিক জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্য সেবা, অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুত পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এছাড়া এআই পরিচালিত ইমিগ্রেশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতের পরিকল্পনা কথাও বলছে বিএনপি।
আইসিটিতে বিএনপির দ্বিতীয় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দেশের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করতে ‘মেইড অথবা অ্যাসেম্বেলড অথবা সার্ভিসড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ চালু করা। এর লক্ষ্য যাতে এসব পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথম সারিতে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আমাদের পাশের দেশসহ অনেক জায়গায় হয়েছে। আমাদের সেই প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে আমরা এখনো পারিনি, বলেন মাহদী আমিন।
আইসিটি খাতকে দ্রুত সক্রিয় করতে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমিকন্ডাক্টর, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ সহ পাঁচটি খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরও ৮ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় বিএনপি।
ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের সুবিধার জন্য পেপালসহ একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করা হবে। যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল, ফি, কর—সবই সহজে ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা যায়।
সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে স্কুল-কলেজ, অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের কথা তুলে ধরে বিএনপি বলছে, এতে দেশের সবাই সহজে তথ্য নিতে ও আধুনিক সেবা ব্যবহার করতে পারবে।
নাগরিকদের তথ্য ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় জনগণ ও দেশি-বিদেশি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও আইন করতে চায় বিএনপি।
মাহদী বলেন, শুধু ২০২৩ সালেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোতে ৬ কোটি ৩০ লাখ বার সাইবার আক্রমণ হয়েছে। এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে ওই একই বছর ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে বিক্রি হয়ে গেছে। এটা আমাদের সাইবার সার্বভৌমত্বের জন্য অনেক বড় হুমকি। তাই দেশ ও নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ডেটা দ্রুত ও নিরাপদে সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশে একাধিক আধুনিক টিয়ার-৪ ও টিয়ার-৩ ডেটা সেন্টার দরকার। তাই বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘ক্লাউড-ফার্স্ট’ কৌশলে দেশের প্রথম এআইচালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে।
‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো।
অতিথিদের আলোচনার আগে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসাইন উদ্দিন শেখর, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান, বেসিস নেতা রোকমুনুর জামান রনি এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ মল্লিক।