
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত ডিসেম্বরে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও বসবাসের জন্য পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে গত ২৩ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়া কান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানান।
যেহেতু দীপু দাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, সেহেতু তার পরিবারের বসবাসের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণসহ পরিবারের সার্বিক সুরক্ষার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
এ সহায়তা ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার ইউএনও-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দীপু দাসের পিতা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার বলেন, ‘দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারেরকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায় বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না।’
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।