ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিবিএস জরিপ: ৮৪.৪% ব্যবহারকারীর প্রধান দক্ষতা কপি-পেস্ট

বিবিএস জরিপ: ৮৪.৪% ব্যবহারকারীর প্রধান দক্ষতা কপি-পেস্ট

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি বাড়লেও দক্ষতা, ব্যবহারধারা ও প্রবেশাধিকারে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

জরিপে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশে। তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। শহর এলাকায় যেখানে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে গ্রামে এ হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহর-গ্রামের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা ডিজিটাল বিভাজনের একটি বড় নির্দেশক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতার ক্ষেত্রে জরিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—ব্যবহারকারীদের বড় অংশই এখনো মৌলিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন, যা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ডিজিটাল দক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে উন্নত দক্ষতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিক থেকে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো খুবই কম—মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট প্রবেশাধিকারে ঢাকার অবস্থান সবচেয়ে এগিয়ে। বিপরীতে পঞ্চগড়ে এই হার সবচেয়ে কম। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো শীর্ষে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, যা আঞ্চলিক বৈষম্যের আরেকটি চিত্র তুলে ধরে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলক কম—মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এই সেবা গ্রহণ করেছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের শিকার হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও কম নয়—ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, ব্যয়বহুল হওয়ায় তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। এতে করে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিবিএসের এই জরিপে স্পষ্ট হয়েছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও দক্ষতা উন্নয়ন, সুষম প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী সেবা প্রদান—এই তিনটি ক্ষেত্রেই এখনো বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতিশীল হবে।

কপি-পেস্ট,৮৪.৪% ব্যবহারকারী,বিবিএস জরিপ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত