
দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমান আজ বগুড়ায় নিজের পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার তার আসাকে ঘিরে নতুনরূপে সেজেছে বগুড়া শহর এবং তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বাগবাড়ী। প্রধানমন্ত্রীর আজকের এ সফর ঘিরে প্রশাসন ও বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বগুড়া থেকে বাগবাড়ীর জিয়া বাড়ি যাওয়ার পথ এবং বগুড়া শহরের যেসব পথে তারেক রহমান যাবেন, সেসব পথ সংস্কার করা হয়েছে। বনানী এলাকা থেকে বগুড়া জিরো পয়েন্ট সাতমাথা পর্যন্ত সড়কে বিভাজক এবং গাছে রং লাগানো হয়েছে। জজকোর্টের তিন রাস্তা মোড়ে ট্রাফিক আইল্যান্ডের ঘোড়াকেও দেওয়া হয়েছে নতুনরূপ। এছাড়া জীর্ণদশা কাটিয়ে নুতন রংয়ে সেজেছে গাবতলীর জিয়া বাড়িও। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন বাড়িটির প্রতিবেশি ও স্থানীয়রা।
বাগবাড়ী বাজারে চা দোকানদার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘হামাগর ছোল নিজের বাড়ি আসব। এডাই বড় খুশি। আগে একবার আছছিল তখন প্রধানমন্ত্রী ছিল না। এবার প্রধানমন্ত্রী। এক নজর দেখমু তাকে।’
বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. তুহিন মিঞা বলেন, ‘১৮ বছর বাগবাড়ীতে রাস্তা-ব্রিজ কিছুর উন্নয়ন হয়নি। এবার গ্রামের ছেলে প্রধানমন্ত্রী, সব হবে। গাবতলী থেকে বাগবাড়ী অনেক দূর। আমরা চাই বাগবাড়ী উপজেলা হোক।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বজন এবং পাশাপাশি বাড়ীর বাবলু তালুকদার উৎসাহ নিয়ে বলেন, ‘বাড়ির ছেলে প্রধানমন্ত্রী, এর চেয়ে গৌরবের কী আছে? প্রায় দুই যুগ পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে আসছে। তাকে বরণ করার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
বগুড়ার বনানী এলাকা থেকে জিরো পয়েন্ট সাতমাথা পর্যন্ত সড়কে বিভাজক এবং গাছে রং লাগানো হয়েছে। সফরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল বাগবাড়ী এলাকা পরিদর্শন করেছে। বাগবাড়ীতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ‘অন দ্য স্পট’ গিয়ে সুবিধা-অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করেছি। আমাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ইউএনও এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে করণীয় নির্ধারণ করছি।’
বিএনপির চেয়ারম্যানের সফর ঘিরে দলীয় বিভিন্ন প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বগুড়ায় আগমণ মানেই এক গুচ্ছ উন্নয়ন হাতে করে নিয়ে আসা। তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধনসহ আরও অনেক কর্মসূচিতে অংশ নিবেন এবং পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত বগুড়াবাসীর উন্নয়নের প্রত্যাশাও পূরণ করবেন।’
একই সুরে প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টন।
তারা বলেন, সকল প্রস্তুতি শেষ। এখন প্রতীক্ষা কখন আসবেন নেতা। বগুড়াবাসী অধীর আগ্রহে তার অপেক্ষা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি নিয়ে বিএনপির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক কালাম আজাদ বলেন, ‘দিনব্যাপী এই সরকারি সফরে তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।’
সকাল ৬টায় ঢাকার বাসভবন থেকে সড়ক পথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার পর বেলা ১১টায় তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন এবং ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া পৌরভবনে উপস্থিত হয়ে ‘বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পৌনে ১টায় বাগবাড়ীতে উপস্থিতি শেষে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জরুরি হামণ্ডরুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
পৌনে ২টায় নশিপুরে চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি পৈত্রিক বাড়ি পরিদর্শন করবেন। পরে ২টা ৪৫ মিনিটে বাগবাড়ী থেকে বগুড়া সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। সেখানে বিরতি শেষে বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
সব কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ফেরার পথে তিনি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ)-তে স্বল্পকালীন যাত্রা বিরতি করবেন এবং রাত ১১টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।