ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার

ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। নতুন মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মাশুল ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ দশমিক ৫১ পয়সা বাড়িয়ে তা ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে।

খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিলের ওপর পড়বে।

এর আগে, গত ২০ ও ২১ এপ্রিল বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে কমিশন। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তারা ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি ১ টাকা ৯৮ পয়সা, পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং উত্তরাঞ্চল বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।

গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। তবে এসব আপত্তি সত্ত্বেও নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে চলতি মাস থেকেই গ্রাহকদের বেশি বিদ্যুৎ বিল গুনতে হবে।

সরকার,বিদ্যুতের দাম,পাইকারি ও খুচরা পর্যায়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত