অনলাইন সংস্করণ
২২:৩৯, ০৭ জুলাই, ২০২৬
অনলাইন বা যে কোনো মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ডেটাবেইস হ্যাকিং বা ডিজিটাল কারসাজির সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে এটি পাস হয়।
নতুন এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁস’ ও ‘ডিজিটাল কারসাজি’র বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। তবে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর থাকলেও নতুন সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। এখন থেকে যে কোনো উপায়ে প্রশ্ন ফাঁসের সর্বোচ্চ সাজা হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
বিলে ‘ডিজিটাল কারসাজি’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেইসে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, কোনো তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা লুকিয়ে ফেলা এই অপরাধের আওতায় পড়বে। এই অপরাধের জন্যও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলেও একই সাজা ভোগ করতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে চুক্তি বা চুক্তি করার চেষ্টা করলেও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া যাবে।
খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করলে ২ বছরের জেল পরীক্ষার উত্তরপত্র অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়নের (ওভার অ্যাসেস) জন্যও সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে এই বিলে। যদি কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন্যায্য কিছু করেন, তবে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের (থার্ড এক্সামিনার) মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে। আর কোনো শিশু এই আইনের অধীন অপরাধ করলে তার বিচার ‘শিশু আইন’ অনুযায়ী হবে।
আবা/এসআর/২৬