
কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার অর্ধশত ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌযোগাযোগ। সাগরে পানির উচ্চতা বেড়ে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের উপচে পড়া ঢেউ দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে আছেন স্থানীয়রা। একইভাবে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটেও যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন দ্বীপবাসী।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৪৭ মিলিমিটার। ৩৩ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৭৬ মিলিমিটার। আগামী দু-তিন দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার লিমা (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্বামী জসিম উদ্দিন।
একইদিন বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে উখিয়ায় মাটির তৈরি ঘরের দেওয়াল ধসে পড়ে মানিক (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওর্য়াডের জামবাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ নেই। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্বীপের পরিস্থিতিও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আবা/এসআর/২৬