ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৪৯৫ উপজেলায় নিয়োগ হচ্ছে ক্রীড়া অফিসার: প্রতিমন্ত্রী

৪৯৫ উপজেলায় নিয়োগ হচ্ছে ক্রীড়া অফিসার: প্রতিমন্ত্রী

দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। গতকাল এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠের সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে আমাদের ক্রীড়া অফিসার আছে। আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে কোনো ক্রীড়া অফিসার নেই, কোনো অবকাঠামোও নেই। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার ছিল উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃজন করা। গতকাল অর্থ বিভাগ থেকে ৪৯৫টি উপজেলার উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃজনের জন্য অনুমোদন হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের ফল পেতে সময় লাগবে। আমি তো মাত্র ছয় মাসের গল্প বলছি আপনাদের। এটা দুই বছর, তিন বছর, পাঁচ বছর পরে যাক, তখন আসল চিত্রটা কিন্তু আপনাদের সামনেই তৈরি হবে। আমাদের সময় দেন।

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি ইভেন্টে দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় আসরে খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল ১৪ লাখ। এরই মধ্যে নিবন্ধন এক লাখের বেশি ছাড়িয়েছে। আরও কয়েকদিন সময় থাকায় নিবন্ধনের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ফুটবল, ক্রিকেটসহ ১০টি ইভেন্টের দল গঠন করা হবে।

খেলার মাঠের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই রামপুরায় মাঠ দখলের বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের যদি কোনো কিছু আপনারা দেখেন, সেটা যদি আপনারা আমাদের অবগত করেন, সেটা আমাদের গৃহায়ন হতে পারে, সেটা ভূমির হতে পারে, সেটা আমারও হতে পারে। খেলার মাঠের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা সে ব্যবস্থা নিতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ধানমন্ডি মাঠের মতো সুন্দর মাঠগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করতে চায় সরকার। বিদ্যমান অবকাঠামো রেখে সেখানে নতুন কিছু সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৭ বছরে আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আমিনুল হক বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব ক্লাবের প্রতি তরুণ সমাজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। আবাহনী ক্লাব কিংবা ধানমন্ডি ক্লাব, এই ক্লাবগুলো বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য। এগুলোকে ধরে রাখা, পলিটিক্সের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমাদের দায়িত্ব, নৈতিক কর্তব্য।

আবাহনী মাঠ পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্লাব পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবাহনী, ধানমন্ডি, মোহামেডানসহ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো যেন ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনসহ প্রতিটি জেলা পর্যায়ে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরি করতে চাই।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ভাতার আওতায় আনার ফলে তৃণমূলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হচ্ছে। খেলোয়াড়দের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী,ক্রীড়া অফিসার,৪৯৫ উপজেলা,নিয়োগ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত