অনলাইন সংস্করণ
১৬:৩৩, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
অবশেষে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যায়ক্রমে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে অনুমোদন পাওয়া তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ। জাহাজগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা যাই হোক, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
জাহাজের সময়সূচি
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জাহাজের যাত্রার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমভি বার আউলিয়া: সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে। সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে।
এমভি কর্ণফুলি: সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করবে। ফিরবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে।
এমভি টেকনাফ: সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে। ফিরবে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেসব নিয়ম মানতে হবে
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি রাত্রিযাপনও করতে পারবেন। তবে দ্বীপে যেতে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণের জন্য আগের মতোই ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট থাকতে হবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে দেওয়া বিধিনিষেধও বহাল থাকছে। এসব বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, কেনাবেচা করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ।
একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এসব নিয়ম মেনেই পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে হবে।