অনলাইন সংস্করণ
১৩:১৭, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
গাইবান্ধায় জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি কারো লাল চক্ষুকে ভয় করে না। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) উত্তরবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে গাইবান্ধার জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আকাশে মাঝে মাঝে শকুনের ছায়া দেখা যায়, সেই ছায়া যেন দেশের মাটিতে পড়তে না পারে, সেজন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আল্লাহর রহমত ও নিয়ামত হলেও গত ৫৪ বছরের সরকারগুলো সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারেনি। একসময় যে নদী দিয়ে জাহাজ চলত, সেই নদী দিয়ে এখন সাধারণ নৌকাও চলাচল করতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য চারটি বড় নদী নিয়ামত হিসেবে দান করেছিলেন, কিন্তু সবগুলোরই এখন একই অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, নদী মরে যাওয়া মানে দেশের মাটি মরে যাওয়া। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গে প্রথমে দৃষ্টি দেওয়া হবে মরা নদীগুলোর দিকে। নদীর জীবন ফিরে এলে উত্তরবঙ্গের জীবনও ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, কোনো আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে দেখতে চান না। তবে বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চান এবং প্রতিবেশিদের প্রতিবেশি হিসেবেই দেখতে চান।
তিনি বলেন, তারা কারো ওপর খবরদারি করতে চান না এবং কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক, সেটাও দেখতে চান না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক শাসন ও বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে। এ ধরনের শাসনব্যবস্থা আর দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শহিদদের কাছে তারা ঋণী এবং সেই ঋণ পরিশোধে সবাইকে সদা জাগ্রত পাহারাদার হিসেবে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, আকাশে মাঝে মাঝে শকুনের ছায়া দেখা যায়, সেই ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।