
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে ঐকমত্যভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বার্তা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দলটির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে রাজনৈতিক সহনশীলতা, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে দলীয় নির্ভরযোগ্যসূত্র।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে- তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেই নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামী। এরইমধ্যে দলটি তাদের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইশতেহারের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, নারীর ক্ষমতায়ন, বাকস্বাধীনতা, মানসম্মত শিক্ষা, টেকসই গণতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্র নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে সমাজে বিভাজন বাড়ানোর প্রবণতা দেশ ও গণতন্ত্র- উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। তাই এবারের ইশতেহারের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকল্প রূপরেখা তুলে ধরতে চায় জামায়াতে ইসলামী। এছাড়াও জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে ওয়েবসাইট খুলে। সেখানে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩৭ হাজারের বেশি মতামত পেয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মতামত ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দেশ গড়ার পরিকল্পনায় অংশীদার হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক অংশগ্রহণের জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এরপর দেশের সর্বস্তরের মানুষ দায়িত্ববোধ, সচেতনতা ও আগ্রহ নিয়ে মতামত প্রদান করেছেন, যা জামায়াতকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রাপ্ত মতামতগুলো জাতীয় খাতভিত্তিক, ৩০০টি সংসদীয় আসনভিত্তিক, পেশাভিত্তিক এবং অঞ্চল, শহর ও জেলাভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে এসেছে। লিখিত মতামতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অডিও ও ভিডিও মতামতও জমা পড়েছে, যা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
জামায়াত আমির বলেন, জনগণের এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, দলের আসন্ন নির্বাচনি ইশতেহার হবে সত্যিকার অর্থেই ‘জনতার ইশতেহার’। এটি জনগণের কণ্ঠস্বর, ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিফলন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইনশাআল্লাহ এই জনমতের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র (বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১)। এখানে জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিন্তু ভোট দেওয়ার আগে ভোটারের জানার অধিকার রয়েছে যে দল বা প্রার্থী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী ধরনের নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এই জানার অধিকার পূরণ করে ইশতেহার।
এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে উদ্যোগটা নিয়েছেন নিঃসন্দেহে অভিনব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইশতেহার হচ্ছে জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট। নির্বাচনি ইশতেহার জনগণের মতামতরে ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। অতীতে কোনো দল জনগণের জনমতের ভিত্তিতে ইশতেহার তৈরি করেনি। আমি এটিকে নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছি। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে তাদের মতামত ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এখানে তাদের মতামতগুলো সুনির্দিষ্ট থাকা দরকার ও অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন হওয়া বাধ্যতামূলক।
জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরিতে ৩০ জনের বিশেষজ্ঞ টিম : চাঁদাবাজমুক্ত, শিক্ষা, সংস্কার, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমনসহ নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। দেশে-বিদেশে ৩০ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ইশতেহার করা হয়েছে। দলটির আগামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় ইশতেহার চূড়ান্ত হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
সংস্কার : অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা গণভোটে পাস বা বাতিল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সেটি সংবিধানে যুক্ত হবে। জামায়াত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তথা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে এবং জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে, সেগুলো সংবিধানে যুক্ত হবে এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।
শিক্ষা : দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে চায় জামায়াত। উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ের সাথে কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। দেশে যাতে কোনো শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয় সেজন্য নেয়া হবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তোলা, দেশে উন্নত গবেষণাগার তৈরি, জনগণকে ইসলামী ও বিজ্ঞান মনস্ক করার নানা পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে। ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। সব নিয়োগ হবে মেধাভিত্তিক।
কর্মসংস্থান : জামায়াত মনে করে বেকার ভাতা দেওয়ার চেয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাতে সবার সম্মান ও দেশের অর্থনীতি উন্নত হয়। এ জন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি, ব্যাংকব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোসহ থাকবে নানা পরিকল্পনা।
দুর্নীতি দমন : জামায়াতের ইশতেহারের অন্যতম দিক থাকবে দুর্নীতি দমন। দলটি মনে করে দুর্নীতির কারণে দেশ পিছিয়ে পড়ছে। দুর্নীতির কারণে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তা দেশে থাকলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কমে যাবে মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া দুর্নীতি না থাকলে দেশের সর্বত্র সুশাসন কায়েম হবে। এতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে।
সংখ্যালঘু : জামায়াত মনে করে দেশে কোনো সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নেই। সব নাগরিক দেশে সমান নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। দলটির নেতারা মনে করেন, জামায়াত বিজয়ী হলে দেশে কেউ সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নির্যাতিত হবে না। ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে সেটা মুসলিমণ্ডহিন্দু-খ্রিষ্টান সবার ক্ষেত্রেই আইন একই গতিতে চলবে। জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলে ধরবে জামায়াত। দলটি খুলনা থেকে এবারই প্রথম একজন হিন্দু ব্যক্তিকে তাদের প্রার্থী করেছে।
নারী : জামায়াত কখনও নারীদের উন্নয়নে বাধা নয়, বরং সহায়ক হবে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এজন্য নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির।
কৃষি : দেশের অর্থনীতির প্রায় ৭০ ভাগ আসে কৃষি খাত থেকে। এজন্য এ সেক্টর নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। কৃষকরা যাতে সার, কীটনাশক নিয়ে সমস্যায় না পড়েন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক যেন চাঁদাবাজির শিকার না হয় ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এক কার্ডে সকল সেবা : নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ সেবা যাতে এক কার্ডের মাধ্যমে পায়, সেজন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করছে দলটি। এজন্য স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু করবে। যেখানে এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সব ধরনের সেবা এক কার্ডে পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য : স্বাস্থ্য খাতে এরইমধ্যে জামায়াতের অভিজ্ঞতা যথেষ্ট। দলের লোকদের উদ্যোগে এরইমধ্যে অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। তবে দেশ পরিচালনায় সব স্বাস্থ্য খাতকে রোগীবান্ধব করার উদ্যোগ, দুর্নীতিমুক্ত করা, সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। ঢাকার ওপর চাপ কামাতে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে।
ব্যবসা-বাণিজ্য : দেশের অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক ব্যবসা-বাণিজ্য। এ খাতে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি আর আমলাতান্ত্রিকতার নানা জাল। এসব ছিন্ন করতে চায় জামায়াত। এ জন্য ইশতেহারে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হবে।
আইসিটি ভিশন : জামায়াত তাদের ইশতেহারে আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন এবং আইসিটি সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে দলটি। তাছাড়া আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
প্রবাসী : অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষকদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে দেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে দলটি।
সংস্কৃতি : জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের সংস্কৃতি জগত আরো সমৃদ্ধশালী ও রুচিসম্মত হবে। জামায়াত কোনো জগতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। যার যার যে অবস্থান আছে, সেখানে তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারবে। সিনেমা-নাটক, বিনোদন সবই থাকবে। জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ভোটারদের এক তৃতীয়াংশ তরুণ। আমরা বলে আসছি, বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেব। বেকারত্ব নির্মূলে আমরা কাজ করব। জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ইশতেহারে মানবিক ও ইনসাফের বাংলাদেশে গড়তে জামায়াত ঐক্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারীদের অধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে। তারুণ্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়তে এ ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশে এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট সমানে সমানে লড়াই হবে। আর এই ভোটের লড়াইয়ে যে দল নির্বাচিত হবে, সে দলই আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচলানার ক্ষমতা পাবে।