
নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একচেটিয়া ও একপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার মতো বন্দোবস্ত করে ফেলেছে, যা পুরো নির্বাচনি পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভা শেষে ফেরার পথে নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যেভাবে বিএনপির চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাই পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ যে গণতান্ত্রিক ধারার স্বপ্ন দেখেছিল, তা ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চৌদ্দগ্রামে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ছাত্রশিবির সভাপতি। অন্যথায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সারাদেশে ২৩০ এর অধিক মানুষকে বিএনপি হত্যা করেছে। তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। অক্রমন করে মানুষকে হত্যা করাই এখন ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র সিঁড়ি হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। বিএনপি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি থেকে বের হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, হত্যায় নিজেদের লিপ্ত করার জন্য অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে পুনর্বাসিত হয়েছে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের সময় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতো এ সব মানুষ এখন বিএনপির মাধ্যমে পুনর্বাসিত হয়েছে।
ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, বিএনপি যদি এ জাতীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতা যেভাবে জীবন দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছে, সেভাবে আবার জুলাই যোদ্ধারা জেগে উঠবে ও তাদের সব অপকৌশলকে নস্যাৎ করে দেবে; ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিভাবে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের অন্তত ৭ নেতাকর্মী আহত হন।